টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পাহাড়ধসের শঙ্কা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৮-০৭-২০২৬ ১০:৫৬:৫০ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
০৮-০৭-২০২৬ ১০:৫৬:৫০ পূর্বাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির নয় উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। জেলার চেংগী, ফেনী ও মাইনী নদীর অববাহিকায় অবস্থিত ৪০টিরও বেশি এলাকায় পানি উঠেছে। টানা বৃষ্টি হলে ঘরবাড়িতে পানি ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
দিঘীনালার মেরুং, কবাখালী, পাবলাখালী, খাগড়াছড়ির মুসলিমপাড়া, গঞ্জপাড়া, কালাডেবা, গোলাবাড়ি, রামগড়ের কলসির মুখ, কালাডেবা, সোনাইফুলসহ বিভিন্ন উপজেলার ৪০টি নিম্নাঞ্চলে পানি উঠেছে। অনেক এলাকার লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে উঠেছে। বৃষ্টি না হলে কয়েক ঘণ্টায় পানি নেমে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে দুর্ভোগ বাড়বে।
অন্যদিকে, পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে— এমন শঙ্কায় অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। খাগড়াছড়ি সদরের সবুজবাগ, কুমিল্লাটিলা, শালবন, দিঘীনালা উপজেলার পশ্চিম কাঠালতলী, মধ্য বোয়ালখালী, রশিক নগর, মাটিরাঙা উপজেলার আলুটিলা, নতুনপাড়া, নবীনগর, কাঁঠালতলী, রামগড় উপজেলার বলিটিলা, লাচারী পাড়া, কালাডেবা, মানিকছড়ি উপজেলার মুসলিমপাড়া, গচ্ছাবিল, কুমারী, গুইমারা এলাকার বড়পিলাক, হাফছড়ি, ডাক্তার টিলাসহ পুরো জেলায় প্রায় ৫০০ পরিবার রয়েছে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে।
খাগড়াছড়ি সদরের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও মাটিতে ফাটলও দেখা দিয়েছে । টানা বৃষ্টি হলে পাহাড়ধস হতে পারে। এ নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।’
জরিনা বেগম নামের শালবন এলাকার আরেক বাসিন্দা জানান, বর্ষা এলেই পাহাড়ধসের আতঙ্ক ফিরে আসে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক পরিবারের পক্ষে অন্যত্র সরে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে দুশ্চিন্তাও।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা পংকজ বড়ুয়া বলেন, ‘টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। যেকোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট দফতর প্রস্তুত রয়েছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাসের প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।’
বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স